• শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৪ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে জামানত হারালেন তিন প্রার্থী নীলফামারীতে তিন দিনের ইজতেমা শুরু ভোটের দিনে লিফলেট বিতরণের দায়ে জামায়াত নেতার অর্থদন্ড নীলসাগর ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ বন্ধ বিশ্ব স্ট্রোক দিবস: স্ট্রোকের ঝুঁকি, রিহ্যাবের সংকট ও পুনর্বাসনে সচেতনতার আহ্বান তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার হত্যা মামলায় মাগুরার সাবেক ওসি ও এসআই জেলহাজতে ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে ৯ কর্মকর্তা প্রত্যাহার সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় জলঢাকা পৌরসভার সাবেক মেয়র গ্রেপ্তার রানীরবন্দরে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী ব্যবসায়ী নিহত

এভারেস্ট বিজয়ীর তালিকায় মুসা ইব্রাহীমের নাম নেই!

Mount_Everest_North_Face_photo_before_suset__13496সিসি নিউজ: বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্ট জয়ীদের নিয়ে প্রকাশিত নেপাল মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশনের প্রকাশনা ‘নেপাল পর্বত’ এ মুসা ইব্রাহিমের নাম যেমন নেই, তেমনি ২০১১ সালে এভারেস্ট জয়ী এমএ মুহিত ও ২০১২ সালে ওঠা ওয়াসফিয়া নাজরিনের নামও পাওয়া যায়নি। ৭১ টেলিভিশনের একটি প্রতিবেদনে এ নিয়ে শনিবার একটি প্রতিবেদন সম্প্রচার হলে পুরো মিডিয়া ও দেশে তোলপাড় শুরু হয়। অথচ ওদের এভারেস্ট জয় নিয়ে মিডিয়া কি না ভীষণ ফলাও করে খবর ছেপেছিল। গর্বে বুক ভরে গিয়েছিল দেশের মানুষের। এখন তাদের এভারেস্ট জয়ের খবর যদি সঠিক না হয় তাহলে ১৬ কোটি মানুষের আবেগের সঙ্গে এক বিস্ময়কর ও ক্ষমাহীন প্রতারনার জন্যে তাদের বিচার হওয়া উচিত বলে মনে করছেন অনেকে। এ বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সক্রিয় হয়ে ওঠার তাগিদ দিয়েছেন তারা।
সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত সংবাদ অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রথম এভারেস্ট জয়ী মুসা ইব্রাহিমের নাম ‘নেপাল পর্বত’-এ নেই। বাংলানিউজের অনুসন্ধানে জানা গেছে, শুধু মুসা ইব্রাহিমই নন, তালিকায় নেই মুহিত ও ওয়াসফিয়াও।
এভারেস্টে তিব্বত ও নেপাল দিয়ে দু’দিক দিয়ে ওঠা যায়। এ প্রকাশনায় শুধুমাত্র নেপাল থেকে এভারেস্ট বিজয়ীদের নামই প্রকাশিত হয়েছে। মুহিত ২০১১ সালে প্রথমবার উঠেছেন তিব্বত দিয়ে। ওই সময়ের তালিকায় তাদের নাম নেই।
মুহিত এবং নিশাত যৌথভাবে ২০১২ সালে উঠেছেন নেপাল দিয়ে, এজন্য ওই সময়ে তাদের নাম পাওয়া গেছে। ২০১১ সালে মুহিতের এভারেস্ট জয়ের তথ্য ‘নেপাল পর্বত’ এ নেই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১০-এ মুসা ও ২০১১ সালে এম এ মুহিত তিব্বত মাউন্টেনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশনের অধীনে নর্থ ফেস দিয়ে এভারেস্ট জয় করেন। ২০১২ সালে নেপাল মাউন্টেনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশনের অধীনে নিশাত মজুমদার এবং তিব্বত মাউন্টেনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশনের অধীনে ওয়াসফিয়া এভারেস্ট জয় করেন।
নেপাল মাউন্টেনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশন প্রকাশিত বইতে ওয়াসফিয়ার নামও পাওয়া যায়নি। বইটিতে শুধুমাত্র নেপাল থেকে এভারেস্ট বিজয়ীদের নামই প্রকাশিত হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দুই অ্যাডভেঞ্চার ক্লাবের দ্বন্দ্ব থেকেই মুসা ইব্রাহিমের এভারেস্ট জয় নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করা হয়েছে। আর এ বিতর্কে ক্ষতি হচ্ছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি।

মুসা ইব্রাহিমের এভারেস্ট জয় নিয়ে সাম্প্রতিক এ দ্বন্দ্বের কারণ খুঁজতে গিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশ মাউন্টেনিয়ারিং ট্রেকিং ক্লাব (বিএমটিসি) এবং নর্থ আলপাইন ক্লাবের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই দ্বন্দ্ব চলে আসছে।
মুসা ইব্রাহিম বিএমটিসি থেকে নর্থ আলপাইনে চলে আসার পর এ দ্বন্দ্ব আরও জোরালো হয়।
শনিবার রাতে একটি অনলাইন সংবাদপত্র সংবাদভিত্তিক একটি চ্যানেলের বরাতে জানায় যে, এভারেস্টজয়ীদের নিয়ে প্রকাশিত নেপাল মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশনের প্রকাশনা ‘নেপাল পর্বত’ এ নাম নেই মুসা ইব্রাহিমের নাম।
সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ওই তালিকায় এভারেস্টজয়ী প্রথম বাংলাদেশি নারী-পুরুষ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এম এ মুহিত ও নিশাত মজুমদারকে।
নর্থ আলপাইন ক্লাব থেকেই ২০১০ সালে অ্যাভারেস্ট জয়ী হন মুসা। মুসার এভারেস্ট জয়ের সংবাদ পৌঁছার পরই ঘোর আপত্তি জানায় বিএমটিসি। তাদের দাবি, মুসা এভারেস্টের চূড়ায় উঠতে পারেননি। এ নিয়ে বিএমটিসি’র সদস্যরা ফেসবুক ও ব্লগে দাবি করেন যে, মুসা প্রতারণা করে নিজেকে এভারেস্টজয়ী দাবি করছেন।
এ বিতর্কের জের ধরে অনলাইনে মুসার পক্ষে দালিলিক কিছু প্রমাণ উপস্থাপন করেন তার বন্ধু এবং নর্থ আলপাইনের সদস্যরা। বর্তমানে এ বিতর্কের জের ধরে ফেসবুকেও চলছে নানা বিতর্ক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ